শারীরিক অসামর্থ্য ও জটিল অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া ইস্তফাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার (২৪ ২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলেই তিনি সাংবিধানিক এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এর আগে বিকেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পাঠান।
৭৬ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন:
“আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এর কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুুসারে দেশের সর্বোচ্চ পদে এই বড় ধরনের রদবদল কার্যকর করা হচ্ছে:
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি): রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ (নতুন নির্বাচন): মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ: জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী ২২তম (কার্যত ২১তম ব্যক্তি হিসেবে) রাষ্ট্রপতি।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার পৌনে দুই বছর আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই বঙ্গভবনের অভিভাবক পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তীব্র হয়ে ওঠে। গতকাল বৃহস্পতিবারই তিনি বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে আজ বিকেলেই স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটল।

