এমএ আউয়াল আশিক,
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এর দক্ষিণ পাশের প্রধান গেট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে এলেও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে সময়, কষ্ট ও ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের বড় গেটটি দীর্ঘদিন আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জনরোষ এড়াতে সেখানে ছোট একটি পকেট গেট রাখা হলেও বর্তমানে সেটিও বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমানে হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়েই রোগী, দর্শনার্থী, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে।
হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেটের ভেতরে ও আশপাশে ফুটপাতের দোকান থাকায় রোগী ও স্বজনদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের মূল নকশা অনুযায়ী দক্ষিণ পাশের গেটটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমন পথ। কিন্তু ২০১০ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি চক্রের স্বার্থে গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গেট বন্ধ রেখে হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং, ক্যান্টিন ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
হাসপাতালে আসা একাধিক রোগীর স্বজন জানান, দক্ষিণ পাশের গেটটি চালু থাকলে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হতো। বর্তমানে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হওয়ায় বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, “দালাল চক্র, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দক্ষিণ পাশের গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের সুবিধার্থে গেটটি পুনরায় চালু করা হবে কিনা— এমন প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি তিনি।এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত দক্ষিণ পাশের গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, গেটটি চালু হলে হাসপাতালের প্রবেশব্যবস্থা সহজ হবে এবং রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

