মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে হামলার বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলা চালানো হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং রাডার স্থাপনাসহ শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরান আরও জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ দেবে, সেগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জর্ডানও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান পুনরায় দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে তারা প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

