আসন্ন বিশ্বকাপে তীব্র গরম ও আর্দ্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জলবায়ু গবেষকরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়া খেলোয়াড় ও দর্শক—উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আগামী বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের মতে, এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে গরমজনিত ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। অন্তত কয়েকটি ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে, যেখানে খেলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিতে হতে পারে।
গবেষণায় ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ (WBGT) সূচক ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব পরিমাপ করে। এই সূচক মানুষের শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারছে, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
পেশাদার ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মেডিক্যাল ডিরেক্টর ভিনসেন্ট গুটবার্জ বলেন, খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
ফিফপ্রোর নির্দেশনা অনুযায়ী, WBGT সূচক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে অতিরিক্ত কুলিং ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর ২৮ ডিগ্রি অতিক্রম করলে ম্যাচ স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে ফিফা জানিয়েছে, তাপঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত পানি বিরতি, স্টেডিয়ামে কুলিং ব্যবস্থা, খেলোয়াড়দের বিশ্রামের পরিকল্পনা এবং উন্নত মেডিক্যাল সহায়তা নিশ্চিত করা।

