সত্যজিৎ দাস:
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় একটি প্রাচীন কালী মন্দিরে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা মন্দিরের পাহারাদারকে বেঁধে রেখে প্রতিমার স্বর্ণালঙ্কার,দানবাক্সের টাকা এবং পূজার বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল মন্দিরের পেছনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমেই তারা পাহারাদার ভানু দাশকে আক্রমণ করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মূল গর্ভগৃহে ঢুকে প্রতিমার গয়না খুলে নেয় এবং অন্যান্য সামগ্রী লুট করে।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাধব দেব জানান,প্রতিমার গলায় থাকা স্বর্ণের হার,কানের দুল,বালা ও অন্যান্য অলংকার ছাড়াও দানবাক্সের নগদ অর্থ এবং পূজার সরঞ্জাম নিয়ে যায় ডাকাতরা। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার আগে মন্দিরে থাকা সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সকালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে জড়ো হয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তোলেন। তাদের অভিযোগ,ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা জানান,পাহারাদারকে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে মন্দির এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে,স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে,ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের হামলা শুধু অপরাধ নয়,এটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করে।
বানিয়াচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জানান,’খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। আহত পাহারাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে একাধিক দল কাজ করছে।’

