সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাওরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে পানির উচ্চতা। এতে নতুন করে ডুবে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান,আর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জেলার বিভিন্ন হাওর,বিশেষ করে সদর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওর ও কমলগঞ্জের কেওলার হাওরে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান কয়েকদিন ধরে পানির নিচে রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ,অর্ধেকের বেশি ধান এখনো মাঠে পড়ে আছে,কিন্তু শ্রমিক ও নৌকার তীব্র সংকটে তা ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষক জাকির মিয়া জানান,তিনি প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১ একরের ধান কাটতে পেরেছেন,বাকিটা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে কেওলার হাওরের কৃষক মুস্তাকিন আহমেদ বলেন,প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করা ধান চার দিন ধরে পানির নিচে,যা তার মতো অনেক কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে,যার মধ্যে ৯৪১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী,টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে অন্তত ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে। এর মধ্যে হাকালুকি ও কাউয়াদিঘী হাওরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন,মোট আবাদকৃত জমির একটি বড় অংশের ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান ঘরে তোলা হয়েছে। তাদের আশা,বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত অবশিষ্ট ধানও কাটা সম্ভব হবে।
এদিকে কৃষকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, কাশিমপুর পাম্প হাউস যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়া এবং সেচ পাম্প নিয়মিত চালু না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে,পাম্পগুলো সচল রয়েছে।
টানা বৃষ্টি,বজ্রপাতের আশঙ্কা এবং পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক মাঠে নামতে পারছেন না। এতে শুধু বোরো ধান নয়,সবজি ক্ষেত এবং আউশ ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে,জেলায় নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। জুড়ী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,যদিও অন্যান্য নদীর পানি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,কয়েক দিন ধরে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলা শহরের খাল-নালা উপচে পড়েছে এবং নিচু এলাকার বাড়িঘর,দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে,সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আরও প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল নতুন করে ডুবে গেছে। তবে বৃষ্টি কমলে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।

