মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রায় ৯২৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্প জানান, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু করা ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি বাবদ তিনি প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার পেয়েছেন। যদিও বাজারে আসার পর ওই ডিজিটাল মুদ্রার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এছাড়া তার ছেলে ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে ট্রাম্পের আয় ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিপ্টো খাতের বাইরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার ব্যবসাগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব ছেলেদের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগের ভিত্তি নেই। উপ-প্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যতম ক্রিপ্টো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন এবং তার সিদ্ধান্তগুলো সবসময় জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ট্রাম্পের ঘোষিত আয় ছিল ৬০ কোটি ডলারের বেশি। এক বছরের ব্যবধানে সেই আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ক্রিপ্টো খাত থেকে অর্জিত অর্থ এখন তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
তার মালিকানাধীন বিভিন্ন গল্ফ ক্লাব থেকেও বড় অঙ্কের আয় হয়েছে। এর মধ্যে মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মিয়ামি গল্ফ ক্লাব থেকে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ি, বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটারের মতো পণ্যের রয়্যালটি থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার আয়ের হিসাব প্রকাশ করেছেন। তার ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি বিক্রি থেকে আরও ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ট্রাম্প মোট ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার পেয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই অর্থের বড় অংশ তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
ফোর্বস–এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। আর ব্লুমবার্গ এই সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করেছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি তুলনামূলক সহনশীল নীতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার প্রশাসনের সময় মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নীতিতেও কিছুটা নমনীয়তা এসেছে।

