সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জানাউড়া গ্রামে একটি বাড়ির রান্নাঘরের ইঁদুরের গর্ত থেকে বিরল প্রজাতির বিষধর কিং কোবরা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার জানাউড়া গ্রামের বাসিন্দা তারেক আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ ফোঁসফোঁস শব্দ শুনতে পান। পরে ইঁদুরের গর্তের ভেতরে ফণা তুলে থাকা একটি বড় সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার দেন। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক তারেক আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে সাপটিকে কুচা দিয়ে মারার চেষ্টা করলেও এর আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে আর কাছে যাওয়ার সাহস পাননি।
পরে স্থানীয় সাংবাদিক আল আমিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশ কর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা গিয়ে দেখতে পান, সাপটি গর্তের ভেতরে অবস্থান করছে এবং এটি অত্যন্ত বিষধর কিং কোবরা।
প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে সাপটিকে নিরাপদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান,উদ্ধার হওয়া সাপটি বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়। প্রাপ্তবয়স্ক কিং কোবরা প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়। শ্রীমঙ্গলের আশপাশের বনাঞ্চল,বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,এদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
পরিবেশ কর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন,কিং কোবরা মূলত অন্যান্য সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে। নির্বিষ দারাজ থেকে শুরু করে বিষধর কেউটে কিংবা সাধারণ গোখরাও এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। এদের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে দ্রুত আঘাত হানে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান,সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি বনাঞ্চল,বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় কিং কোবরা ও অন্যান্য গোখরা সাপের উপস্থিতি রয়েছে। লোকালয়ে এদের খুব কম দেখা যায়। সাধারণত ইঁদুরের গর্ত,পরিত্যক্ত বাড়ি,মাটির দেয়ালের ফাটল, খড়ের গাদা কিংবা চা বাগানের ঝোপঝাড়ে এরা আশ্রয় নেয়।
বন বিভাগের তথ্যমতে,বন ধ্বংস ও সড়ক দুর্ঘটনায় কিং কোবরার মৃত্যু এখন বড় উদ্বেগের কারণ। এ কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের গতি ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশে কিং কোবরা বর্তমানে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হলেও মৌলভীবাজারের চিরহরিৎ বনাঞ্চলে এদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

