পরিবারের অভাব দূর করতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ময়মনসিংহের আব্দুর রহিম (৩০)। কিন্তু দালালের প্রতারণায় তাকে বাধ্য হয়ে যোগ দিতে হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। গত ২ এপ্রিল ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় এই তরুণ প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (১২ মে) তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নামাপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে রহিম ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। অত্যন্ত অভাবের কারণে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় পড়াশোনা ছেড়ে ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুর যান রহিম। সাত বছর সেখানে কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। পরে আবারও পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ৯ লাখ টাকা ঋণ ও জমি বন্ধক দিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় পাড়ি জমান।
পরিবার জানত রহিম একটি কোম্পানিতে কাজ করছেন। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়, যা পরিবারের সদস্যরা জানতেন না। গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সম্প্রতি লিমন দত্ত নামে এক সহযোদ্ধার মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, ২ এপ্রিল ড্রোন হামলায় রহিম এবং কিশোরগঞ্জের রিয়াদ নামে আরেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুশ সেনার পোশাকে রহিমের ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনরা।
মঙ্গলবার দুপুরে রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। শোকগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ।
ইউএনও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। জড়িত দালালকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দালালের খপ্পরে পড়ে আর যেন কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

