বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ-কে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ক্যানার ও স্টোরেজ সংকটের কারণে ডিজিটালাইজেশনের কাজ ধীরগতিতে চলছিল। বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর্কাইভে থাকা অ্যানালগ ফিল্মগুলোকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরের জন্য এখন একটি উচ্চক্ষমতার স্ক্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে।
প্রতিষ্ঠানটির সংগ্রহে থাকা ১৬ ও ৩৫ মিলিমিটার ফরম্যাটের বিপুলসংখ্যক চলচ্চিত্র দ্রুত ডিজিটাল করতে অতিরিক্ত স্ক্যানারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ফিল্ম ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি রেস্টোরেশন কার্যক্রমও চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, স্ক্যানিংয়ের সময় ফিল্মে থাকা ধুলা, স্ক্র্যাচ ও কম্পনের মতো ত্রুটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সংশোধন করা হয়। একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুনরুদ্ধারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কার্যদিবস সময় লাগে।
বর্তমানে ডিজিটাল ডাটা সার্ভার ও হার্ডড্রাইভে সংরক্ষণ করা হলেও ভবিষ্যতে ক্লাউডে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে ডাটা স্থানান্তরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, সংবাদচিত্রসহ বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে। এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি কনটেন্ট সংরক্ষণ করা হয়েছে।

