সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
রংপুর বিভাগের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হলো দিনাজপুরে।
‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এ বিভাগের ৮টি জেলার ৩০টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ৯০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে।
আজ শনিবার সকাল থেকেই দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে তরুণ উদ্ভাবকদের উপস্থিতিতে। শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বহুমুখী কৃষি রোবট, স্মার্ট লাইন ফলোয়ার রোবট, এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ প্রতিরোধক, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অ্যালার্ম সিস্টেম, কচুরিপানা থেকে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ, ফুটস্টেপ পাওয়ার জেনারেশন, হাইড্রোলিক ব্রেকিং সিস্টেম, আধুনিক গ্রিন সিটি ও নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটি প্রজেক্টসহ নানা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন প্রদর্শন করে।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ৭টি প্রকল্প জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘পলিমার রিসাইকেলড কনস্ট্রাকশন’, দ্বিতীয় ‘স্মার্ট আইওটি বেজড হোম অটোমেশন সিস্টেম’ এবং তৃতীয় ‘ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি উইথ এভরি স্টেপ’।
প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এসেট প্রকল্প। এর আগে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইনস্টিটিউট মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। স্থানীয় সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান নিজেরাই উদ্ভাবনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্ব, যেখানে দেশের ৮টি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৫০টি সেরা প্রকল্প অংশ নেবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী তিনটি প্রকল্পের উদ্ভাবকদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।
উল্লেখ্য, গত বছর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ৩,২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে বাছাইকৃত প্রকল্পগুলোই ধাপে ধাপে আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।

