আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার :
কক্সবাজারের রামুতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর অভিযানে সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী এবং তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছিল বলে জানায়।
রোববার বিকেলে রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের রামু বাইপাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
র্যাব-১৫ (সিপিএসসি, কক্সবাজার) এর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদে জানা যায় পহেলা বৈশাখ পরবর্তী সময়ে ছুটি শেষের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা বড় একটি মাদকের চালান চট্টগ্রাম হতে যাত্রীবাহী বাসযোগে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে আসছে। উক্ত তথ্যে র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল রামু বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশিকালে ‘এসআই এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি বাসে থাকা দুইজন যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পরবর্তীতে তাদের সাথে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ১৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ধৃত আসামীরা হলো কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড লাইট হাউজ এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র মোঃ জাকির হোসেন (৫০) এবং তার স্ত্রী নূর নাহার (৪৩)।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করে, তারা পেশাদার মাদক কারবারি এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। মূলত ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করত।
এ বিষয়ে র্যাব-১৫ এর দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, মাদক পাচারের রুটগুলো বন্ধ করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সর্বদা সজাগ। বিশেষ করে উৎসব বা ছুটির সময় যখন অপরাধীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে, তখন আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়।
গ্রেফতার আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু পূর্বক জব্দ মাদকসহ রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

