ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুটি দুর্নীতির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।
আদালত ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। তবে মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে রিট করলে সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ফলে তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। পরে গত ১৭ জুন তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন।
ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, প্রথম মামলাটি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দায়ের করা হয়। তদন্ত চলাকালে শহিদুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করলে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকেও হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইভাবে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলায় অভিযুক্ত কামরুন নাহারও হাইকোর্টে রিট করলে ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়।
দুদক জানিয়েছে, দুটি মামলার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রধান কার্যালয়কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং কমিশনের অনুমোদন মিললে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, সরকারি জমি অধিগ্রহণ, টিসিবির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা তার স্ত্রীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে তদন্ত শেষ করে দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

