শহিদুল ইসলাম, প্রতিবেদক:
দুর্গম পাহাড়ী এলাকা বন্দুকভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে নানিয়ারচর সেনা জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ মে ২০২৬, শুক্রবার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) এর উদ্যোগে চট্টগ্রামে দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ক্ষারিক্ষ্যং আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বন্দুকভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ হতে বন্দুকভাঙ্গা এলাকায় বিশেষ অপারেশন চলাকালীন সময় দেখা যায়, উক্ত এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় এই এলাকার জনসাধারণ সুচিকিৎসা হতে বঞ্চিত। এমন শোচনীয় অবস্থা দেখতে পেয়ে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি, এর নির্দেশনায় বন্দুকভাঙ্গা ও নোয়াদম এলাকায় জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের জন্য একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন কর্মসূচির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বন্দুকভাঙ্গা, নোয়াদম, মুবাছড়া, মগপাড়া এবং আশেপাশের এলাকার নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বয়স্ক এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করা ও তাদের সার্বিক স্বাস্থ্যমান উন্নত করতেই সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।
নানিয়ারচর জোনের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মাকসুদুল হাসান কর্তৃক ২৮ পুরুষ, ৬১ জন মহিলা ও ১৪ জন শিশুসহ সর্বমোট ১০৩ জন রোগীকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেনা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
এসময় জোন কমান্ডার বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর এ ধরণের সেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রসংশা করেন।
এ ধরণের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসী মত প্রদান করেন। উক্ত কর্মসূচি জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোনের সার্বিক নির্দেশনায় এবং জোন উপ-অধিনায়কের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

