শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে এক অদ্ভুত ও উজ্জ্বল আলোক রশ্মি দেখা গেছে। বিশেষ করে পর্যটন শহর কক্সবাজার এবং মাদারীপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে এই দৃশ্য ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই এই আলোর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিনগ্রহের যান (UFO) বা উল্কাপাত নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
কক্সবাজার সন্ধ্যা ঠিক ৭টার দিকে সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা আকাশে এই আলো দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি প্রায় এক মিনিট স্থায়ী ছিল এবং দেখতে অনেকটা ধোঁয়ার লেজযুক্ত জ্বলন্ত বস্তুর মতো ছিল।
মাদারীপুর একই সময়ে মাদারীপুর শহর, মোস্তফাপুর ও শিবচর এলাকা থেকেও এই দৃশ্য দেখা গেছে। শিবচরের বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে আলোর স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৫ মিনিট। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্কও তৈরি হয়।
আকাশে এই রহস্যময় আলো কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা আবহাওয়াজনিত বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি সম্ভবত ভারতের কোনো দূরপাল্লার মিসাইল বা ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষার ফল।
মিসাইল যখন বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত উপরের স্তরে (আয়নোস্ফিয়ারের কাছাকাছি) পৌঁছায়, তখন এর ইঞ্জিনের জ্বালানি দহনের ফলে সৃষ্ট গ্যাস বা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
সূর্যাস্তের কিছু সময় পর ভূপৃষ্ঠ অন্ধকার হয়ে গেলেও বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে তখনও সূর্যের আলো থাকে। সেই আলো যখন মিসাইলের ধোঁয়ার মেঘে পড়ে, তখন তা উজ্জ্বল ও রহস্যময় আলোকচ্ছটার মতো দেখায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আবহাওয়াগত ঘটনা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের উড়িষ্যা উপকূল থেকে উড্ডয়ন করা কোনো অত্যাধুনিক মিসাইল পরীক্ষার কারণে এমন দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
এর আগেও ভারতের ‘অগ্নি’ সিরিজের মিসাইল পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে একই ধরণের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সাধারণত ভারতের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ (উড়িষ্যা উপকূল) থেকে মিসাইল উৎক্ষেপণ করা হলে এই অঞ্চলের আকাশ থেকে তা দৃশ্যমান হয়।

