ওসমানীনগর(সিলেট) প্রতিনিধি :
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলম এবং মাদ্রাসা ও মসজিদের বিরুদ্ধে দারুল উলুম ইসলাহুল বানাত ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ আলী হেলালির ‘ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের প্রতিবাদে সিলেটের ওসমানীনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে বুরুঙ্গা বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, দারুল উলুম ইসলাহুল বানাত ফাজিল মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ আলী হেলালীর বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যকলাপ ও বক্তব্য দীর্ঘদিন যাবৎ জনমনে চরম উদ্বেগ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি করে আসছে। এসব কর্মকাণ্ড উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, সুনাম এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন,তিনি সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বিনষ্ট করার শামিল।
সিলেট দরগাহ মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি অনৈতিক, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা ওই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টের আশঙ্কা তৈরি করছে।
তিনি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের স্বীকৃত আকীদা ও মতাদর্শের পরিপন্থী বক্তব্য প্রদান করে মাজারকেন্দ্রিক বিদআত ও কুসংস্কৃতির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।
জনমতে প্রচলিত রয়েছে যে, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খুল ইসলাম হত্যা মামলার ১৬৪ ধারার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করলেও তিনি জনতার আদালত থেকে মুক্ত হননি। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
মাওলানা আহমদ আলী হেলালির বিরুদ্ধে সমকামিতাসহ একাধিক নৈতিক স্খলনসংক্রান্ত অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে, যার প্রেক্ষিতে অতীতেও এলাকাবাসী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে মাওলানা আহমদ আলী হেলালীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা থেকে অপসারণের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত তাকে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা শায়েখ আহমদ চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন ওয়াদুদ, হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী শফি এবং মাওলানা রাশিদুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

