যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজন ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ইরানের রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করেছে এবং মধ্যপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর ন্যস্ত করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে কট্টরপন্থীরা কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছে, তাদের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা ভবিষ্যতে ইরানের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তান ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও চুক্তিটির বিরোধিতা করে আরও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় জানান, ব্যক্তিগতভাবে তার অবস্থান ভিন্ন হলেও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি সমঝোতাটি অনুমোদন দিয়েছেন। চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের শর্তও পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আস্থা না থাকলেও সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সমঝোতাকে শান্তি ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিকে আংশিক সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু অর্জন সম্ভব হলেও সামনে এখনও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে। তিনি একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তবে কট্টরপন্থী মহল হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হলে তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশে চুক্তি নিয়ে পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনাও দেখা গেছে। কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, এই সমঝোতা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এই অন্তর্বর্তী সমঝোতা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। চুক্তির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে অগ্রসর হবে।

