মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্ট ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণে নিয়ে নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ভিডিও ও কনটেন্ট প্রকাশ করে আসছেন। এলাকাবাসীর মতে, এসব কনটেন্ট বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মানসিক গঠন ও নৈতিক মূল্যবোধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে। আখাউড়ার সড়কবাজার এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের ফেসবুক পেজে যুবকের শাড়ী পড়া কয়েকটি ভিডিও প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি দল গঠন করে নিয়মিত এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে, যা নিয়ে সমাজে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এ প্রসঙ্গে সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদনের নয়, বরং সমাজ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এখানে কনটেন্ট প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, রুচিশীলতা ও নৈতিকতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় আলেম মাওলানা রবিউল ইসলাম বলেন, “সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যুবকের বক্তব্য সংগ্রহে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

