রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকেও আটক করেছে পুলিশ। স্বপ্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, একই ভবনে বসবাসকারী জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বিকৃত মানসিকতার ছিলেন এবং তিনি পারিবারিকভাবে তার স্ত্রীকেও নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্নাকে আটক করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পেশায় রিকশা মেকানিক বলে জানা গেছে।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা যায়, জাকিরের বিরুদ্ধে এর আগেও নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লাশের অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি এখনো ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির সঙ্গে অনৈতিক আচরণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় এবং পরে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়।
এদিকে স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, রামিসার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র কয়েক মাস আগে পাশের ফ্ল্যাটে উঠেন। ঘটনার দিন সকালে শিশু রামিসাকে স্কুলে পাঠাতে খোঁজাখুঁজির সময় তার মা ফ্ল্যাটের সামনে স্যান্ডেল দেখতে পান, এরপরই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে স্বপ্না দরজা না খুলে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জাকির জানালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

