সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মোহাম্মদপুর থানার ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এ আবেদন জানান।
আদালতে পলক দাবি করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমআরআই পরীক্ষায় ঘাড়ের দুটি হাড়ের সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলছেন এবং শারীরিক অবস্থার কথাও আদালতকে অবহিত করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি মোট ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার বিচার চলছে, আবার কয়েকটিতে সাক্ষ্যগ্রহণও অব্যাহত রয়েছে। এসব কারণে মামলার প্রস্তুতির জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরামর্শ করার সুযোগ প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের কাছে তুলে ধরেন।
আবেদনে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত ৩০ মিনিট সাক্ষাতের সুযোগ এবং প্রতি দুই সপ্তাহে দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন।
তবে শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি।
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম জানান, কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিরা নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। তবে চলমান একাধিক মামলার আইনি প্রস্তুতির সুবিধার্থে আইনজীবীদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

