শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা
খুলনা জেলা সদর থেকে ৬৪ কিলোমিটার দক্ষিণে, শিবসা ও কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা ‘ক’শ্রেণী পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছে।
৩০ জুন মঙ্গলবার পৌরসভার নতুন ভবন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট পেশ করা হয়। নতুন অর্থ বছরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং মৎস্য উৎপাদন ও গবেষণা অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি ১৯ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭৯২ টাকা ২৫ পয়সা। বিপরীতে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৭৯ হাজার ২৫৩ টাকা ৯০ পয়সা। সার্বিক আয়-ব্যয় শেষে ৬৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫৩৮ টাকা ৩৫ পয়সা উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে, যা আপৎকালীন ও জরুরি নাগরিক সেবা খাতের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখবে।
পৌরসভার বর্তমান পরিষদের পক্ষে বাজেট বিবরণী পাঠ করেন পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি আষাঢ়ের প্রাকৃতিক আবহে ঋতুভিত্তিক শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিজ্ঞানী স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সুসাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক ও সমাজসেবক রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমির উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রশাসক। তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে মাত্র ৬.৯৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভাটি দেশের মৎস্য গবেষণা, উৎপাদন ও আহরণের অন্যতম শীর্ষ কেন্দ্র হিসেবে সমগ্র খুলনা জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। ফলে এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবারের প্রস্তাবিত আয় ও ব্যয়ের খাতগুলোতে জনসেবা নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উপকূলীয় এই জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও সুপেয় পানির সংকট দূরীকরণে এই বাজেটের বাস্তব বরাদ্দ ও তার যথাযথ প্রয়োগ কতটুকু সফল হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পৌর প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে সুপরিকল্পিত টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভা বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তিনি পৌরসভার সর্বস্তরের নাগরিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সুধীসমাজের সমন্বিত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব কামনা করেন।
পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এই বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সংগ্রহে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বাস্তবায়নে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

