যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণত মজুত কমে গেলে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার যুদ্ধ পরিস্থিতি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতার কারণে বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে আরও ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পর মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে। এটি ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন। ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধাপে ধাপে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ওয়াশিংটন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শক্তিশালী রপ্তানি এবং রিফাইনারিগুলোর বাড়তি চাহিদার কারণে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দেশটির মোট কৌশলগত ও বাণিজ্যিক মজুত প্রায় ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ১৯ জুন পর্যন্ত ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন।
তবে মজুত কমলেও বাজারে দাম বাড়েনি। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে। এতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ঘোষণা আসেনি, তবু উত্তেজনা কমতে পারে—এমন ধারণাই বাজারকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো থেকে তেল ও এলএনজি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

