সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় জেলার নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য ও পরিচিতি সভায় মিলিত হয়েছেন। ‘
শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসে।
নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পুলিশ এবং সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয় থাকা জরুরি।” তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ নবাগত পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানিয়ে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন তাঁরা।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর আলোকপাত করা হয়। তা হলো—জেলার ট্রাফিক ও সাধারণ নাগরিক জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে একটি প্রগতিশীল জেলা গড়ে তোলা।
পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন— ”পুলিশের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় খোলা থাকবে। আমরা চাই সাতক্ষীরা জেলাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। সাতক্ষীরার ২৩ লক্ষ মানুষের শান্তির মঞ্জিল হিসেবে সাতক্ষীরাকে গড়ে তুলতে চাই। কেউ দলীয় পরিচয়ে অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশ প্রস্তুত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তাঁর দরজা সব সময় খোলা আছে।” তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের চোখে আমরা পৃথিবী দেখি। তাই পুলিশ-পাবলিক-প্রেস এই তিনটির সমন্বয় অতীব জরুরী।” সভা শেষে নবাগত পুলিশ সুপার জেলার সকল গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনগুলোতে সাতক্ষীরার উন্নয়নে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকারসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাংবাদিক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, আব্দুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বরুণ ব্যানার্জি, আবু তালেব, আবুল কালাম, গাজী ফরহাদ, আব্দুস সামাদ, এসএম বিপ্লব হোসেন, আবু সাইদ প্রমুখ।
এসম সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারের কাছে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন— মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, চুরি, ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু পাচার, কাউন্টার মামলা, হয়রানিমূলক মামলা, মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, তদন্তে দুর্বলতা, পুলিশের নিকট থেকে সময়মত তথ্য না পাওয়া, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, জেল পলাতক আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া, ভূমি দস্যু, বনদস্যু, পাচার ও পাচারকারী আইনের আওতায় না আসা, ট্রাফিক সেবা সঠিকভাবে না পাওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সাতক্ষীরা জেলা। এসব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তা সমাধানের দাবি জানান বক্তারা। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সকলের সহযোগিতা নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন।


