স্ট্র্যাটেজিক বা ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি “বোকামিপূর্ণ যুদ্ধ লঙ্ঘন” করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সামরিক বাহিনী শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার (ডিপো) এবং উপকূলীয় রাডার অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে।
হামলার পটভূমি ও নাবিক উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত:
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি আন্তর্জাতিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। মূলত সেই ঘটনার ক্ষিপ্র ও শক্তিশালী জবাব দিতেই শুক্রবার এই মার্কিন সামরিক অ্যাকশন নেওয়া হয়।
এই ড্রোন ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আটকে পড়া হাজার হাজার আন্তর্জাতিক নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার যে যৌথ উদ্ধার পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে ওই নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
ইরানের দাবি ও মার্কিন সেন্টকমের পাল্টা বক্তব্য:
এদিকে কার্গো জাহাজে হামলার পক্ষে সাফাই গেয়ে তেহরান প্রশাসন দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই উপসাগরীয় নৌপথ বা আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে পাড়ি দেওয়ার সময় ওই নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজটি অনুমোদিত রুট বা প্রটোকল অমান্য করে ‘অনুমোদনহীন পথ’ ব্যবহার করছিল। আর এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই সেটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করা হয়।
তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা এই মার্কিন বিমান হামলাকে আগের দিনের ড্রোন হামলার “শক্তিশালী ও যৌক্তিক জবাব” হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে:
“আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আগ্রাসন স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া, ইরানের এমন বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক আচরণ এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব করেছে, যেখানে দিন দিন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়ছে।”
হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সরাসরি সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নতুন করে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।

