মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের হাতে মাত্র ৮০০ টাকা সহায়তা তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সমন্বয়ক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে,গত ১২ জুন সন্ধ্যায় মাছ ধরতে গিয়ে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিবুর রহমান। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তগ্রামে নিহত মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সমন্বয়ক সারজিস আলম। এ সময় তারা স্থানীয়দের কাছে নিহতের পরিবারের জন্য সহায়তার আহ্বান জানান। পরে সংগৃহীত অর্থ নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নেতারা নিজেদের তহবিল থেকে কোনো অর্থ সহায়তা না দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মাত্র ৮০০ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।
নিহতের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার তিনটি ছোট সন্তান নিয়ে আমি এখন সম্পূর্ণ অসহায়। আরেকটি সন্তান আমার গর্ভে রয়েছে। ঢাকা থেকে এনসিপির নেতারা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তাদের গাড়িবহর ও আয়োজন দেখে এলাকার মানুষ ভেবেছেন আমরা কয়েক লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু পরে জানতে পারি, তারা মাত্র ৮০০ টাকা দিয়েছেন। একটা মানুষ মারা গেল, তার বদলে এই টাকা! এই টাকা দিয়ে আমরা এখন কী করব? মানুষের ভুল ধারণার কারণে আমরা আরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি।”
নিহতের মা লায়লা বেগম বলেন,“পুত্রবধূর হাতে দেওয়া টাকা পরে গুনে দেখি ৮০০ টাকা। তারা আমাদের বলেছিলেন,পরে বড় একটি তহবিল গঠন করে সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এত সামান্য সহায়তা দেওয়ায় আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,মুজিবুর রহমানের পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা লায়লা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগম,তিন বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আক্তার ও এক বছর বয়সী ছেলে মোজাহিদ আলী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ও টেকসই সহায়তা কামনা করেছেন।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বা সমন্বয়ক সারজিস আলমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

