কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে বারো মাসে ছয়টি ঋতু। প্রতি দুই মাস অন্তর ঋতু পরিবর্তন হয়। আর এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে চলতে থাকে রূপের পালাবদল। প্রকৃতিতে এখন চলছে গ্রীষ্ম কাল। আর এই গ্রীষ্মকালে কাঠফাঁটা রোদে কৃষ্ণচূড়ার আবীর নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে যেন বর্ণিল রুপে। দেখলেই মনে হয় প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন জ¦লছে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথে প্রান্তরে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গ্রীষ্মের রোদের সবটুকু উত্তাপ গায়ে মেখে নিয়ে ফুটেছে সবুজ চিকন পাতার মাঝে এই রক্তিম পুষ্পরাজি, যেন আগুন জ্বলছে।
যে দিকে চোখ যায় সবুজের মাঝে শুধু লাল রঙের মূর্ছনা, প্রকৃতির এই সৌন্দর্য চোখে পড়ছে। চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও। ঋতুচক্রের আবর্তনে কৃষ্ণচূড়া তার মোহনীয় সৌন্দর্য নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে ংপ্রকৃতির মাঝে। সেইসাথে কৃষ্ণচূড়ার লাল আবীর গ্রীষ্মকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এ গাছ পত্রপল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য বিখ্যাত। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও এ গাছ ছায়া দিতে বিশেষ উপযুক্ত। উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো বড় ৭/৮টি পাপড়িযুক্ত গাঢ় রক্তিম লাল হয়। ফুলের ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে। পাপড়িগুলো প্রায় আট সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। এর প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। কুঁড়ি আসার কিছুদিনের মধ্যে পুরো গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে। তবে কৃষ্ণচূড়া গাছ খুব একটা বড় হয় না। এর ডালপালা পাইকোর গাছের মতো অনেক জায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর শহরের তারাগন, উপজেলা চত্বর, বাইপাস রেলওয়ে স্কুল সংলগ্ন স্থানে, উপজেলার আজমপুরসহ অনেক জায়গায় রাস্তার দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া শোভা পাচ্ছে।
পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো: মহসিন মিয়া বলেন, তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা কৃষ্ণচুড়া গাছটি অনেক পুরনো। গাছটিতে দেখার মতো ফুল ফুটেছে। দেখতে খুবই সুন্দর দেখাচ্ছে। পথচারীসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজন কৃষ্ণচুড়া ফুলের ছবি তুলছেন।
মোগড়া এলাকার মো: বাছির মিয়া বলেন, স্কুল মাঠে বিশাল আকারের কৃষ্ণচুরা গাছটিতে ফুল আসায় ছোট বড় সকলের নজর কাড়ছে। তাছাড়া শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে গাছের নিচে এসে বসে থাকছেন। প্রচন্ড গরমে অনেকে গাছের ছায়ায় বসে লোকজন গল্প গুজব করে। গত কয়েক বছর ধরে এই গাছটিতে ভালো ফুল আসছে। যা দেখে খুবই ভালো লাগে।

