কাজী মফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নবান্ন উৎসব পালিত হয়েছে। গ্রামের কৃষকদের উৎসাহিত করতে ফসলী জমি মাঝেখানে সোমবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপাড়া এলাকায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া। তাছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা কৃষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের উপস্থিতিতে উৎসবটি প্রানবন্ত হয়ে উঠে।
নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস এ আয়োজন করে। পরে নতুন ধানের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: কফিল উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা প্রকোশলী মো: আমিনুল ইসলাম সুমন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইলিয়াস উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম,উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: আলেক হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, মো: মশিউর রহমান প্রমূখ।
জানা গেছে, বাংলার প্রকৃতিতে অগ্রহায়ণ এলেই কৃষককেরা দিগন্ত জুড়ে ধানকাটা মাড়াই উৎসবে মেতে উঠেন কৃষক। ব্যস্ত সময় কাটান কৃষক-কৃষাণীরা। ধান তোলার গান ভেসে বেড়ায় বাতাসে বাতাসে। কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠে সোনালী ধানে। নতুন চালের ভাত আর পিঠা-পুলি ভিন্ন এক আমেজ এনে দেয় কৃষক পরিবারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার ৪শ ১২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে ৯শ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। জমিতে ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হয়।
কৃষক মো: শাহআলম বলেন, এধরনের অনুষ্ঠান সহজে দেখা যায় না। অনুষ্ঠানে এসে খুবই ভালো লেগেছে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, বাংলার প্রকৃতিতে অগ্রহায়ণ এলেই দিগন্ত জুড়ে ধানকাটা মাড়াই উৎসব শুরু হয়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষ্যে গ্রামের কৃষকদের উৎসাহিত করতে মূলত ফসলী জমি মাঝেখানে এ আয়োজন করা হয়। এখানে পিঠা উৎসবসহ নানা ধরনের চিত্র তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।

