বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যদিও বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে।
বুধবার (৪ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার আগে পুরো এলাকা রেকি করা হয়েছিল এবং পালানোর রুটও আগে থেকেই নির্ধারণ করা ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, একটি চারচাকার যান ও একটি মোটরসাইকেল রথের গাড়িকে অনুসরণ করছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারচাকার যানটি সামনে এসে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। অন্তত ১০টি গুলি তার শরীরে লাগে, যা বুক, পেট ও মাথায় আঘাত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এই হামলায় রথের গাড়িচালকও আহত হয়েছেন। তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর অস্ত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি সন্দেহভাজন গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং সেটির নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এদিকে যশোর রোডসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের গতিবিধি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা বলে মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে দলের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

