ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাতার সঙ্গে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা বর্তমানে পুরো এলাকায় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলাতক গৃহবধূর নাম রিমি খাতুন (৩৫)। প্রায় ১৭ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমির সঙ্গে শৈলকুপার রাশেদ আলীর (৩৮) বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। স্বামী রাশেদ আলী জীবিকার প্রয়োজনে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বছরখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর এলাকার মামুন হোসেন (২৪) নামের এক যুবকের সঙ্গে রিমির পরিচয় হয়। মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রিমির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পরিবারের দাবি, রিমি নিজেই তাঁর বড় মেয়ের বিয়ের জন্য মামুনকে পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু মা ও হবু জামাতার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দেখে মেয়েটি এই বিয়েতে অসম্মতি জানায়। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি চরমে পৌঁছালে একপর্যায়ে বড় মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুর পরও রিমি ও মামুনের অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত ছিল।
গত ২৮ এপ্রিল স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে রিমি খাতুন তাঁর ছোট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মামুনের সঙ্গে ঘর ছাড়েন। স্বামী রাশেদ আলী অনেক বুঝিয়েও স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও শিশুদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁদের উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

