মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, নলছিটি প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি নিযুক্ত হওয়ায় ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দাররের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে নলছিটিতে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাদ আসর নলছিটি হাই স্কুল জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এতে অংশ নেন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নলছিটির দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এনায়েত করি মিশু, পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা, উপজেলা যুবদল যুগ্ন আহ্বায়ক জিয়াউল কবির মিঠু, রেজওয়ানুল হক রেজওয়ান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন পান্নু, জাহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা হাসিবুল হাসান সবুজ, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক বশির তালুকদার, যুগ্ন আহ্বায়ক রাজীব তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব সুজন খান, পৌর ছাত্রদল সদস্য সচিব সাব্বির আহমেদ, যুগ্ন আহবায়ক এইচ এম ফয়সাল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল সভাপতি কাজী রেজাউল, শ্রমিক দল নেতা ইদ্রিস মাঝি সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পেশাগত জীবনে তিনি এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও উন্নয়ন খাতে তিন দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন।
তিনি বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুষ্টিতে স্নাতকোত্তর এবং সুইডেনের উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে আশির দশকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। গত বছরের ১০ মার্চ তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান এবং দলটির স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি গ্রাসরুট নেটওয়ার্কের।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠির সন্তান ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের বাবা মরহুম হরমুজ আলী একজন সিনিয়র সহকারী সচিব ছিলেন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার বড় জিয়াউদ্দিন।
নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী, সমন্বিত ও টেকসই করতে তিনি কাজ করবেন। তিনি বলেন, “প্রাইমারি হেলথকেয়ার ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে। কারণ, মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে হামের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত টিকা সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।”
ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, “গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে আমার অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে পুষ্টি, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও জরুরি।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে চাই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আমার জন্য বড় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো।

