সোশ্যাল মিডিয়ায় সমসাময়িক নানা বিষয়ে বরাবরই অকপট ও সক্রিয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির মাসের প্রথম দিনে ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত ও ট্রলড হ্যাশট্যাগ ‘#জুলাইCDI’ নিয়ে পোস্ট করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর, আজ আরেকটি পাল্টা পোস্ট দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতি (২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মেহের আফরোজা শাওন তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার গণভবনের একটি ভিডিও শেয়ার করে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন।
নতুন পোস্টে শাওন সমালোচকদের ‘ভন্ড সুশীল’ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন: “৭৮ বছর বয়স্ক মহিলার অন্তর্বাস উঁচিয়ে দাঁত কেলিয়ে উল্লাস করা কিংবা দেয়ালে গ্রাফিতির নামে সরাসরি হাসিনা *দি লেখা দেখে যাদের মুচকি হাসি পেয়েছিল, আজকে একটি ইংরেজি মাস CDI লেখাতে তাদের শালীনতায় খুব লাগছে! আহারে ভন্ড সুশীলগুলো…”
চব্বিশের গণভবন ভাঙচুর ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত পোশাক নিয়ে উল্লাসের প্রসঙ্গ টেনে শাওনের দেওয়া এই পোস্টটি নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে নেটিজেনদের একাংশ তাঁর সাহসের প্রশংসা করছেন, অন্য বড় অংশটি তাঁর এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) ফেসবুকে ‘#জুলাইCDI’ হ্যাশট্যাগ নিয়ে নিজের একটি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন শাওন, যা মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। প্রসঙ্গত, গত বছর (২০২৪) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে কিছু নেটিজেন ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘জুলাই’ শব্দের পাশে ইংরেজি বর্ণ ‘CDI’ (যা একটি বিশেষ অশালীন বাংলা গালির সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ট্রল করা হয়) ব্যবহার শুরু করে।
সেই বিষয়টি নিয়ে শাওন গতকাল তাঁর পোস্টে লেখেন, গত এক বছর ধরে তিনি ফেসবুকে ‘#জুলাইCDI’ শব্দটি দেখে আসছেন। প্রথমে এটি শুধুমাত্র জুলাই মাসের একটি ট্রেন্ড বলে মনে হলেও পরে তিনি লক্ষ্য করেন, বছরের বিভিন্ন সময়েও অনেকেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন।
তিনি লেখেন, “প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম #জুলাইCDI কোনো একটা ট্রেন্ড। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই হয়তো তারা #জুলাইCDI লেখে। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখলাম, সারাবছরই ফেসবুকে বেশিরভাগ মানুষ লিখছে #জুলাইCDI। তখন বুঝতে পারলাম, #জুলাইCDI শুধু জুলাই মাসে না, যেকোনো সময় #জুলাইCDI লেখা যায়।”
হ্যাশট্যাগটির বহুমাত্রিক ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে শাওন ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরও লেখেন, “মন খারাপ থাকলে যেমন আস্তে করে লেখা যায় #জুলাইCDI, তেমনি মন খুব ভালো থাকলেও হো হো করে হাসতে হাসতে #জুলাইCDI লেখা যায়। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডার গল্পে যেমন লেখা যায় #জুলাইCDI, তেমনি কারও ওপর ভীষণ রেগে গেলেও #জুলাইCDI লেখা যায়। আবার মনের অবস্থা ভালো না মন্দ, আপনি বুঝতে পারছেন না, তখনও আপনি #জুলাইCDI লিখতে পারেন।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি সরাসরি লেখেন, “আমার বাবা, এতোকিছু ভেবে কাজ নেই। আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI…।”
পয়লা জুলাইয়ে শাওনের এই পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থক ও সাধারণ নেটিজেনদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছেন, শাওন এই পোস্টের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের আবেগকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ বা ব্যঙ্গ করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বা তাঁর ভক্তরা মনে করছেন, গত এক বছর ধরে সামাজিক মাধ্যমে চলা নোংরা ট্রল সংস্কৃতিকেই শাওন তাঁর চেনা রসাত্মক ঢঙে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তবে প্রথম পোস্টের পর ফেসবুক কমেন্ট বক্সে তুমুল সমালোচনা ও গালিগালাজ চললেও শাওন দমে যাননি, বরং বৃহস্পতিবারের নতুন পোস্টের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—সমালোচকদের তিনি একচুলও ছাড় দিতে নারাজ।

