সত্যজিৎদাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ছাদির হোসেন (৩৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন মিয়াকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।গ্রেপ্তারকৃত সুমন মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।
র্যাব জানায়,নিহত ছাদির হোসেনের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও গ্রাম্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৯ মে বিকেলে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাদির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী,হামলার সময় সুমন মিয়া কুড়াল দিয়ে ছাদির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। পরে অপর আসামিরা তাকে লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ছাদির হোসেনকে প্রথমে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শাল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিপিসি-৩,সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-৭ সিপিসি-৩,চট্টগ্রামের একটি যৌথ দল গত ১৭ জুন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকার ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

