নেত্রকোণার মদনে ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগরকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম আজ বুধবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান: র্যাব-১৪ এর একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আজ দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে ধরা পড়ে যে সে অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল অভিযুক্ত সাগর তার স্ত্রী ও সন্তানসহ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এর আগে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করায় সে তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসামিপক্ষ থেকে কোনো প্রকার হুমকি বা ধমকি দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে।
অবশেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেপ্তার এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে একজন শিশু যেভাবে পাশবিকতার শিকার হলো এবং পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলো, তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি।

