ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এলিসি প্রাসাদে আয়োজিত ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে তার মিত্রদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অগ্রাহ্য করার পথে হাঁটছে।
ম্যাক্রোঁর উদ্বেগের প্রধান কারণসমূহ:
▪︎ নীতিগত পরিবর্তন: ম্যাক্রোঁ অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একসময় যেসব আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের প্রবক্তা ছিল, এখন তারাই সেগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি একে “নতুন এক ধরনের সাম্রাজ্যবাদ” হিসেবে অভিহিত করেন।
▪︎ ন্যাটো ও নিরাপত্তা: ন্যাটো জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “প্রতিদিন নিজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা হলে জোটের মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যায়।”
▪︎ আঞ্চলিক অস্থিরতা: গ্রিনল্যান্ড দখল বা ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলো ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব এখন বড় শক্তিগুলোর ভাগাভাগির খেলায় মেতেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপকে কেবল দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন” অর্জনের আহ্বান জানান, যাতে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ওপর অতিরঞ্জিত নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তার এই কড়া বার্তা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।

