সত্যজিৎ দাস:
বাংলাদেশের আঞ্চলিক উন্নয়ন বাস্তবতায় মৌলভীবাজার-৩ এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্যোগগুলো দেখা যাচ্ছে,তা স্থানীয় চাহিদা ও অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই আসনের ক্ষেত্রেই উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকে মূল ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এবং উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গ্রামীণ রাস্তাঘাটের দীর্ঘদিনের অবস্থা বিবেচনায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মনু নদীর ওপর আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সংযুক্ত ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৪০০ শয্যায় উন্নীত করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জরুরি সেবা উন্নয়ন এবং বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়টি সংসদীয় পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ-৩ আসনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধরণ কিছুটা ভিন্নভাবে নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। খাল পুনঃখনন,নদীর তীরবর্তী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ এখানে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পৌরসভাকে আধুনিক,পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ সদর ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ,মাদ্রাসা,কবরস্থান ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন স্থানীয় সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়।
স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি, জনবল সংকট নিরসন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
উভয় আসনের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ প্রবণতা স্পষ্ট-উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জনসেবা,অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন,প্রশাসনিক সমন্বয় এবং কার্যকর তদারকির ওপর।
এম নাসের রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি স্থানীয়ভাবে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
জি কে গউছ হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা। তাঁর কর্মকাণ্ড মূলত নগর উন্নয়ন,জলাবদ্ধতা নিরসন,স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর কেন্দ্রীভূত।

