ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অকালে প্রয়াত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ কারিনা কায়সারের দ্বিতীয় জানাজা আজ রোববার (১৭ মে ২০২৬) রাত ১০টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে বিকেল ৫টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে সেখান থেকে প্রথমে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলির বিবরণ
প্রথম জানাজা: আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস মাঠে কারিনা কায়সারের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।
শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও দ্বিতীয় জানাজা: প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাত ১০টার পর তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে ও পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনার সহকর্মী, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী এবং জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধারা উপস্থিত হয়ে এই লড়াকু তরুণীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় (বাদ ফজর) সেখানে শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
লিভারের তীব্র জটিলতাসহ ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩১ বছর বয়সী কারিনা কায়সার। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১১ মে) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনা কায়সার শুধু ডিজিটাল কনটেন্ট ও অভিনয়েই (ইন্টার্নশিপ, ৩৬-২৪-৩৬) জনপ্রিয় ছিলেন না, বরং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনেও ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি, ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

