পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
এ যেন এক নির্মম সময়ের গল্প। যে মানুষটি একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতেন, শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতেন, আজ সেই মানুষটিই নিঃশব্দে লড়ছেন নিজের জীবনের জন্য। পাইকগাছার পরিচিত সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান—জাতীয় পত্রিকা দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ এবং খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন-এর পাইকগাছা উপজেলা প্রতিনিধি—এখন খুলনার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে প্রতিনিয়ত পাঞ্জা লড়ছেন। তার পায়ে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি গ্যাংগ্রিন। প্রতিদিন একটু একটু করে পচে যাচ্ছে শরীর, নিভে যাচ্ছে বেঁচে থাকার আলো।
মফস্বলের সাংবাদিকতা মানেই এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে পড়া—কখনো কাঁচা রাস্তা, কখনো নদীপথ, কখনো দূর গ্রামের কোনো অসহায় মানুষের কান্না শুনতে ছুটে যাওয়া। সেই গল্পগুলোই পৌঁছে দেওয়া দেশের মানুষের কাছে। ফসিয়ার রহমানও ছিলেন তেমনই এক নিরলস সংবাদযোদ্ধা। সীমিত আয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আর অগণিত বাধা সত্ত্বেও তিনি সংবাদ পাঠিয়েছেন নিষ্ঠার সাথে। অনেক সময় একটি সংবাদের পেছনে ব্যয় হয়েছে নিজের শেষ সম্বলটুকু, তবুও থেমে যাননি—কারণ তিনি জানতেন, তার কলমই পারে অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে।
আজ সেই কলম থেমে গেছে। হাসপাতালের নির্জন কক্ষে তার নীরব আর্তনাদ যেন দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়। এই কান্না শব্দের নয়—এ এক অসহায়ত্বের, অবহেলার, আর চরম অর্থসংকটের কান্না। যে হাত একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতো, সেই হাত আজ অসাড় হয়ে পড়ে আছে বিছানার এক কোণে। যন্ত্রণা যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন তার নিঃশ্বাসে ভেসে আসে শুধু বাঁচার আকুতি—কিন্তু সেই আকুতির জবাব দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তার পরিবারের।
পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফসিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকেছেন। মফস্বলের ধুলোমাখা পথ থেকে তুলে এনেছেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশার গল্প। অথচ আজ তার নিজের গল্প শোনার কেউ নেই। উন্নত চিকিৎসার আশায় শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মাঝপথেই থেমে যায় সেই লড়াই। বুকভরা বেদনা আর অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে তাকে ফিরে আসতে হয় দেশে—আর সেই ফিরে আসা যেন ছিল আরও গভীর অন্ধকারে পতন।
এখন প্রতিটি দিন তার জন্য এক একটি দুঃসহ অধ্যায়। তীব্র ব্যথায় কাতরানো ফসিয়ার রহমান কখনো চোখ বন্ধ করে সহ্য করার চেষ্টা করেন, আবার কখনো অস্ফুটে বলে ওঠেন—“আমি কি আর লিখতে পারবো?” এই প্রশ্ন যেন শুধু তার নয়, আমাদের সমাজের বিবেকের কাছেও এক কঠিন প্রশ্ন। আমরা কি সত্যিই একজন কলমযোদ্ধাকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেবো?
তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন—তিনি একজন বাবা, যার সন্তানেরা অপেক্ষা করে আছে বাবার ফিরে আসার। তিনি একজন স্বামী, যার অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে একটি পরিবার। তিনি এই সমাজেরই একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ, যিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে মানুষের কষ্টকে বড় করে দেখেছেন সবসময়।
আজ সময় এসেছে, সেই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর। আপনাদের সামান্য সহায়তাই হতে পারে তার জীবনের নতুন আশার আলো। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, মানবিক সংগঠন—সবার প্রতি আকুল আহ্বান, আসুন আমরা সবাই মিলে বাঁচিয়ে তুলি এক সাহসী কলমযোদ্ধাকে।
সহায়তার জন্য যোগাযোগ: মোবাইল/বিকাশ-নগদ (পার্সোনাল): ০১৯১৪-১৮২৭৪৩
একটি হাত বাড়ালেই হয়তো বেঁচে যাবে একটি জীবন, ফিরে আসবে একটি পরিবারে হাসি, আবারও জেগে উঠবে এক সাহসী কলম—যে কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে।

