এম.শাহীন আল আমীন, জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুরের ইসলামপুর কুলকান্দি এলাকার একটি খামারে বেড়ে উঠেছে ফিজিশিয়ান জাতের বিশালদেহি গরু। মালিকের নামানুসারে নাম রাখা হয়েছে জামাল মিয়া। ওজন এক হাজার ৪০০ কেজি।
সরেজমিনে খামারটিতে দেখা যায়, জামাল মিয়া শুধু আকারেই বড় নয়, দেখতেও দর্শনীয় ও খুবই শক্তিশালি। তাকে গোয়াল ঘর থেকে বের করতেই ১০/১২ জন লোকের প্রয়োজন হয়।
খামারি জাহিদ ইসলাম ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগম জানান, প্রায় আড়াই বছর পরিবারের সদস্যদের মত করেই লালন পালন করে করে আসছে জামালকে। আমাদের পরিবারের প্রতিজন সদস্যরই সাথে জামালের গড়ে উঠেছে বিশেষ সখ্যতা। প্রতিজন সদস্যই জামালকে ভালোবাসে। তাকে এক নজর না দেখলে মন জুড়াইনা। সবার আন্তরিক ভালোবাসায় জামাল আমাদের পরিবারের সদস্যর মতই বড় হয়ে উঠেছে।

জাহিদুল ইসলাম জানান, জামালের প্রধান পছন্দের খাবার মিষ্টি আলু,নানা জাতের ফলফলান্তি, ডিম, ঘাষ, ভুট্টা ও গমের ভুষি। গোসল ও শারিরীক ব্যায়ামসহ সব পরিচর্যা ছিলো নিয়মিত। ১/২ দিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হবে। গরুটির বর্তমান ওজন এক হাজার ৪০০ কেজি।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই জামালের দরদাম করেছে। প্রত্যাশা অসুযায়ি দাম পেলেই বিক্রি করে দেবো।
জাহিদুল ইসলাম স্ত্রী ছাবিনা বেগম বলেন, পরিবারের সবার ভালোবাসার জামাল বাড়ী থেকে বের হয়ে যাবে তা ভাবতেও খারাপ লাগছে। কারণ জামাল শুধু আমাদের কাছেই প্রিয় না। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের কাছেই জামাল প্রিয় হয়ে উঠে ছিলো। প্রতিদিন জামালকে দেখার জন্য অনেক মানুষ বাড়ীতে আসতো। ভালো দামে বিক্রি হলে অনেক খামারি কৃষক উৎসাহিত হবে।
কুলকান্দি গ্রামের মুছা মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় এত বড় গরু এর আগে কেউ দেখেনি। জামাল কুলকান্দি গ্রামের ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রতিদিন অনেক কৃষক জামালের লালনপালন বিষয়ে জেনে গেছে। জামালের আচরনে মুগদ্ধ হয়ে অনেকেই কামালের জন্য নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসেছে। শিশুরাও জামালকে অনেক মজা করেছে। জামাল ছিলো ভালোবাসার প্রাণ।
জামালপুরের অতিরিক্ত প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, প্রয়োজন মাফিক গরুটির নিয়মিত শারিরীক সেবা ও পালন পদ্ধতি বিষয়ে খামারি জাহিদুল ইসলামকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জামালের আলাদা বৈশিষ্ট হলো তাকে কৃত্তিম কোন খাবার বা ক্ষতিকর কোন মেডিসিন দেওয়া হয়নি।
প্রাকৃতিক খাবার খেয়েই গরুটি বড় হয়েছে। এ কারণে গরুটি অনেক শক্তিশালি। তিনি বলেন, জামালপুর জেলায় এক লাখ সাত হাজার ৬৫টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত জামালই সেরা।

