পাহাড়ের দুর্ভেদ্য ঢাল আর মাটির শত ফুট নিচে বিস্তৃত সুড়ঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের নতুন কিছু দৃশ্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যাধুনিক গবেষণাগার, বিজ্ঞানীদের ব্যস্ততা এবং উচ্চমাত্রার নিরাপত্তার এই ছবিগুলো সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কি তবে নিঃশব্দে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে?
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মাটির গভীরে স্থাপন করার মূল কারণ হলো শত্রুপক্ষের আকাশপথের নজরদারি এবং সম্ভাব্য বিমান হামলা এড়ানো। প্রকাশিত দৃশ্যগুলোতে দেখা গেছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে রেডিয়েশন সতর্কতা চিহ্ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ($U^{235}$) সাথে সংশ্লিষ্ট উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হলেও, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার পর তা পারমাণবিক বোমা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের এই গোপন সুড়ঙ্গগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, মাটির নিচের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ সহজ হতে পারে। তবে ইরান বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তেহরানের দাবি, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা গবেষণার মতো বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই ধরনের স্থাপনার তথ্য সামনে আসা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো একে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
বিশেষ করে ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য ইরানের এই আন্ডারগ্রাউন্ড সক্ষমতা মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটির নিচের এই রহস্যময় সুড়ঙ্গগুলো এখন শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

