মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আয়োজন নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠালেও ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই আজ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, পরবর্তী আলোচনার সময়, স্থান বা কাঠামো নিয়ে তাদের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান আলোচনার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ বা শর্ত বেঁধে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এই সীমাগুলো সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে হবে। তবে সেই শর্তগুলো আসলে কী, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তেহরান আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিলেও মার্কিন পক্ষ তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা থামায়নি।
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে রয়েছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার, যাঁরা প্রথম দফার আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে কমপক্ষে দুইটি মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিনিধিরা আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন। তবে ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে এই সফর কেবল লজিস্টিক শো-ডাউন নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রত্যাখ্যান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ‘নৌ-অবরোধ’ এবং সাম্প্রতিক হুমকির বিরুদ্ধে এক ধরনের কৌশলগত প্রতিবাদ। ওয়াশিংটন যদি তেহরানের দেওয়া ‘লাল রেখা’ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর আগেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

