ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে তীব্র সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করার পরপরই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করার চেষ্টা চলছে। তেল আবিব ও জেরুজালেম ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ থেকে এই আকস্মিক বিমান হামলার বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কারণে কেবল মূল ইসরায়েলই নয়, বরং অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও তীব্র সাইরেন শোনা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করার সময় বাতাসের উচ্চ স্তরে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ওই হামলার পর পরই ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তারই জের ধরে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হলো।
গত রাত থেকে শুরু করে তিন দফায় ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরেও অনবরত সাইরেন বাজছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও বসে থাকেনি; তারা ইরানের পশ্চিমা ও মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে।

