দক্ষিণ এশিয়ায় চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়ে নয়া দিল্লিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের সামরিক দুঃসাহসিকতা দেখায়, তবে দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল চিরতরে বদলে দেওয়া হবে এবং ভারত শুধুই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকার ঝুঁকিতে পড়বে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’-এ খাজা আসিফ এই হুমকি দেন।
খাজা আসিফ তার সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, বিগত বছরের (২০২৫) এপ্রিল-মে মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১৯ দিনের সামরিক সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি ও পরাজয় ঢাকতেই ভারতীয় সেনাপ্রধান এখন অবাস্তব মন্তব্য করে তাদের হারানো সামরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor)-এর জবাবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ (যার অর্থ লোহা বা সীসাঢালা প্রাচীর) নামে এক বিশাল ও নজিরবিহীন পাল্টা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে:
ভারতের একাধিক কৌশলগত ও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর সর্বাধুনিক রাফাল (Rafale)-সহ মোট ৮টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তান।
ধ্বংস করা হয় বেশ কয়েকটি ভারতীয় নজরদারি ও কিলার ড্রোন।
যদিও আকাশযুদ্ধের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবিটি পাকিস্তান সামরিক বাহিনী জোরালোভাবে প্রচার করলেও এর কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
খাজা আসিফ জানান, দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রায় ৮৭ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ও জরুরি মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারত মারাত্মক এক “বিব্রতকর ও কোণঠাসা” পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের যে একক আধিপত্য ও প্রভাবশালী সম্পর্ক ছিল, তা আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিপরীতে পাকিস্তান এই অঞ্চলে নিজের একটি “সম্মানজনক ও শক্তিশালী অবস্থান” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।
অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ ভারত-ইসরাইল সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের চেয়ে শক্তিশালী অন্য কোনো মুসলিম বা সার্বভৌম রাষ্ট্রের উত্থান তেল আবিব (ইসরাইল) কখনোই মন থেকে চায় না। ফলে দুই দেশের গোপন সামরিক লক্ষ্য, আধিপত্যবাদী নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে একটি গভীর ও নোংরা মিল রয়েছে।

