Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ স্মরণে

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
৬:৫৯ pm ২৯, মে ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

সৈয়দ আমিরুজ্জামান 

দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন, গণমানুষের অধিকার আদায় সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণের লড়াইয়ে আজীবন সক্রিয় থাকা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের সপ্তম প্রয়াণ দিবস আজ।

২০১৯ সালের ২৯ মে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বামপন্থী রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছিল অপূরণীয় শূন্যতা।

মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত একসময়কার জনপ্রিয় গণমুখী পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘মনুবার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তিনি শুধু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং জনমানুষের ভাষা, সংগ্রাম ও স্বপ্নকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত; আর সাংস্কৃতিক চেতনায় তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণের অক্লান্ত সংগঠক।

সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক বিকাশ

১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আবু জাফর আহমদ। শিক্ষাজীবনের শুরু সৈয়ারপুর লক্ষ্মীবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত গড়ে দেয়। মামা সৈয়দ মতিউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুতই ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠকে পরিণত হন।

১৯৭০ সালে মৌলভীবাজার কলেজ ছাত্র সংসদে সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির যৌথ গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রমাণ রাখেন।

স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে মৌলভীবাজার কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। সেই বছর সিলেটে চা-শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রথমবার কারাবরণ করতে হয় তাঁকে।

কারাগার, আন্দোলন ও আপসহীন রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কমরেড আবু জাফর আহমদ ছিলেন সম্মুখসারির সংগঠক। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ সংগঠিত করতে গিয়ে সামরিক শাসনামলে প্রায় এক বছর বিনা বিচারে কারাবন্দি ছিলেন। পরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ক্ষেতমজুর সংগঠন গড়ে তোলা, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮২-৮৩ সালে ক্ষেতমজুরদের সংগঠিত করে ক্ষেতমজুর সমিতি গঠনে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৩ সালের সিমিটার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা-সিলেট পদযাত্রা সফল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তাঁকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে গিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ। পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে ভারত, নেপাল, চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সিপিবির নেতৃত্বে উত্থান

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা পর্যায়ের সংগঠক থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন কমরেড আবু জাফর আহমদ। দীর্ঘ সময় মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১০ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় অবস্থান শুরু করেন।

২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে সিপিবি সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, বৈষম্য, দুর্নীতি এবং লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। শ্রমিক-কৃষক-খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা ও প্রগতিশীল চর্চা

রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগঠক হিসেবে মৌলভীবাজারে সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন। হো চি মিন জন্মশতবার্ষিকী, নজরুল জন্মশতবার্ষিকী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মশতবর্ষ, কার্ল মার্কসের জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী এবং মহান অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপনে তিনি নেতৃত্ব দেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন, সংস্কৃতি ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। তাই সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে সাংস্কৃতিক জাগরণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘মনুবার্তা’ ছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর, যেখানে শ্রমজীবী মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্ব পেত।

২০০৯ সালে প্রান্তিক শব্দকর জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার উদ্যোগও তাঁর সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নির্বাচনী রাজনীতি ও গণসংযোগ

কমরেড আবু জাফর আহমদ সংসদীয় রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে মৌলভীবাজার-৪ এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে মৌলভীবাজার-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও তিনি নির্বাচিত হননি, তবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ছিল আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, গণমানুষের অধিকার এবং বিকল্প রাজনৈতিক ধারার পক্ষে শক্তিশালী বক্তব্যে সমৃদ্ধ।

পরিবার ও ব্যক্তিজীবন

১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল কাউছার পারভিন ডলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, মানবিক ও সংগ্রামী। তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানান, মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সংগঠন, আদর্শ ও গণমানুষের স্বার্থ রক্ষার লড়াই থেকে সরে আসেননি।

প্রয়াণ ও স্মরণ

২০১৯ সালের ২৯ মে দিবাগত রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে। সিপিবি তাঁকে একজন “আজীবন সংগ্রামী কমিউনিস্ট নেতা” হিসেবে অভিহিত করে।

সপ্তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মরণসভা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সিপিবি এবং প্রগতিশীল সংগঠনগুলো তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা সাপ্তাহিক মনুবার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, কমিউনিস্ট নেতৃত্ব কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

“কমরেড জাফর”

দুনিয়ার মজদুর এক হও— এই উচ্চারণ ভোরের মতো আজও জাগে মাঠে, চা-বাগানের পাতার ভাঁজে, শ্রমিক-ঘামে, পথের ধুলোয়, মৌলভীবাজারের আকাশ জুড়ে লাল পতাকার ঢেউয়ে। সাতটি বছর কেটে গেছে নিঃশব্দ বিদায়ের পরে, তবু তুমি কোথাও যাওনি, কমরেড আবু জাফর, মানুষের কণ্ঠে তুমি আজও অনড় প্রতিজ্ঞার মতো, শোষিতের রুটির দাবির মতো, কৃষকের জমির মতো, অন্ধকারে জ্বলা অবিচল দীপশিখার মতো রয়েছ।

রঘুনাথপুর গ্রামের শিশিরভেজা প্রভাতে যে শিশুটি প্রথম দেখেছিল বাংলার সবুজ ধান, তার চোখে ছিল ভবিষ্যতের সংগ্রামের আগুন। মায়ের কোলের লালনগীতি, পিতার শ্রমঘ্রাণ, চারপাশের বঞ্চিত মানুষের নীরব দীর্ঘশ্বাস— সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক সাহসী হৃদয়, যে হৃদয় কখনো মাথা নোয়াতে শেখেনি ক্ষমতার কাছে, যে হৃদয় নিপীড়িত মানুষের কষ্টকে নিজের করে নিয়েছিল।

সৈয়ারপুর লক্ষ্মীবালা বিদ্যালয়ের উঠোনে অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল যে কিশোরের, সে অক্ষর পরে রূপ নিয়েছিল মিছিলের শ্লোগানে, রূপ নিয়েছিল সংবাদপত্রের নির্ভীক সম্পাদকীয়তে, রূপ নিয়েছিল জনমানুষের জাগরণের আগুনে। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় যখন ইতিহাস বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেন, তখন হয়তো অনুভব করেছিলেন— এই ভূখণ্ডের মানুষ একদিন মুক্তি চাইবে, শোষণের শেকল ভেঙে দাঁড়াবে নতুন সূর্যের দিকে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান যখন জ্বলে উঠল, রাস্তাঘাট কেঁপে উঠল ছাত্র-জনতার পদধ্বনিতে, তুমি তখন কেবল দর্শক হয়ে থাকনি, কমরেড, তুমি নেমেছিলে রক্তমাখা রাজপথের শপথে। ছাত্র ইউনিয়নের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে বলেছিলে— এই দেশ মানুষের হবে, শ্রমিকের হবে, এই দেশ সাম্প্রদায়িক অন্ধকারে হারাবে না কখনো। সেই দিন থেকে তোমার জীবনের প্রতিটি দিন রাজনীতির মানে হয়ে উঠেছিল মানুষের মুক্তি।

কলেজ সংসদের সাহিত্য সম্পাদক হয়েও তুমি কেবল কবিতা বা গল্পের শব্দে থেমে থাকনি, তুমি বুঝেছিলে সংস্কৃতিও এক ধরনের সংগ্রাম, গানের ভিতরেও থাকে বিদ্রোহের আগুন, নাটকের সংলাপেও জেগে ওঠে মুক্তির ডাক। মৌলভীবাজারের তরুণদের তুমি শিখিয়েছিলে— সত্যিকার শিল্প মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়, সত্যিকার সাহিত্য শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলে, সত্যিকার সংস্কৃতি কখনো মাথা নত করে না।

একাত্তরের ভয়াল মার্চ, আগুনে পোড়া জনপদ, রাত্রির অন্ধকারে পাকবাহিনীর বুটের শব্দ, নদীতে ভাসা লাশ, জ্বলে যাওয়া গ্রাম, আর সেই বিভীষিকার মাঝখানে তরুণ আবু জাফর মুক্তিযুদ্ধের গোপন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টির যৌথ গেরিলা বাহিনীর সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে তুমি কাগজপত্র সংগ্রহ করেছ, খবর পৌঁছে দিয়েছ, ঝুঁকি নিয়েছ জীবনের, তবু ভয় পাওনি। কারণ স্বাধীনতার চেয়ে বড় কোনো সত্য ছিল না তখন।

স্বাধীনতার পরও তো লড়াই শেষ হয়নি, কমরেড, কারণ পতাকা বদলালেও ক্ষুধা বদলায়নি, ক্ষমতার মুখ বদলালেও শোষণ থামেনি। তুমি তাই আবার নেমেছিলে সংগঠনের কাজে, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে, নতুন প্রজন্মকে বলেছিলে— স্বাধীনতা কেবল মানচিত্র নয়, স্বাধীনতা মানে মানুষের মুখে অন্ন, স্বাধীনতা মানে ন্যায়ের অধিকার, স্বাধীনতা মানে ভয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস।

মৌলভীবাজার কলেজের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, তবু ক্ষমতার চেয়ারে বসে আরামে থাকনি, শ্রমিকের পাশে, কৃষকের পাশে, মেহনতি মানুষের পাশে নিজেকে সমর্পণ করেছিলে নিঃশেষে। সিলেটে চা-শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে যখন রাজপথে নেমেছিল প্রতিবাদের মিছিল, তুমি ছিলে প্রথম সারিতে, উঁচু কণ্ঠের শ্লোগানে, আর সেই অপরাধে কারাগারের অন্ধকারে প্রথমবারের মতো বন্দী হয়েছিলে তুমি। কিন্তু লোহার শিকল কখনো আটকাতে পারেনি তোমার বিশ্বাসের উজ্জ্বল আগুন।

কারাগারের স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে হয়তো লিখেছিলে— মানুষের মুক্তির চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই, শ্রমিকের অধিকারের চেয়ে বড় কোনো আইন নেই, দেশপ্রেম মানে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। জেলখানার অন্ধকার তোমাকে ভাঙতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে প্রতিজ্ঞার শিকড়। বেরিয়ে এসে আবার দাঁড়িয়েছিলে মানুষের মাঝে, যেন ঝড় পেরিয়ে ফেরা অদম্য বটগাছ।

পঁচাত্তরের কালরাত্রি যখন রক্তে রঞ্জিত, বঙ্গবন্ধুর হত্যায় কেঁপে উঠেছিল বাংলাদেশ, সামরিক বুটের নিচে স্তব্ধ হয়েছিল বাকস্বাধীনতা, তখনও তুমি নীরব থাকনি, কমরেড। প্রতিবাদ সংগঠিত করেছিলে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, আর বিনা বিচারে জেলে কাটিয়েছ দীর্ঘ দিন। কত নির্যাতন, কত জিজ্ঞাসাবাদ, কত নিঃসঙ্গতা, তবু তোমার কণ্ঠ থেকে মুছে যায়নি বিশ্বাস— এই দেশ একদিন সাম্যের পথে হাঁটবেই।

মুক্তির পরে আবার সংগঠন, আবার মিছিল, সভা, কর্মশালা, গণসংযোগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে শক্তিশালী করতে দিনরাত ছুটে বেড়িয়েছ জেলা থেকে জেলায়। মৌলভীবাজারের মাটিতে গড়ে তুলেছ মানুষের রাজনীতির এক দৃঢ় ভিত্তি। তোমার কণ্ঠে ছিল যুক্তির দীপ্তি, তোমার আচরণে ছিল সহজ মানবিকতা, তোমার নেতৃত্বে মানুষ খুঁজে পেয়েছিল আস্থা।

পূর্ব জার্মানিতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পাঠ তোমাকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক দৃষ্টির বিস্তার, কিন্তু তুমি কখনো মাটির গন্ধ হারাওনি। তুমি ফিরে এসেছিলে বাংলার মানুষের কাছে, কারণ বইয়ের তত্ত্ব তখনই সত্য হয় যখন তা শ্রমিকের জীবনে আলো জ্বালে, ক্ষেতমজুরের ঘরে ভাতের নিশ্চয়তা আনে, শোষিতের চোখে স্বপ্ন ফিরিয়ে দেয়।

আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী দিনগুলোতে তুমি রাজপথে ছিলে অনমনীয় প্রতিবাদের মুখ। ক্ষেতমজুর সমিতি গড়ে তুলে বলেছিলে— যে হাত ফসল ফলায়, সে হাত খালি থাকবে কেন? যে মানুষ মাঠে ঘাম ঝরায়, সে কেন না খেয়ে রাত কাটাবে? তোমার প্রশ্নগুলো ছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, ক্ষমতার প্রাসাদে যার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যেত।

সিমিটার বিরোধী পদযাত্রায় তোমার পদধ্বনি ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছিল প্রতিবাদ, প্রশাসনের নজরদারি, হুমকি, ভয় দেখানো— কিছুই তোমাকে থামাতে পারেনি। কারণ তুমি জানতেই— জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।

বিবাহিত জীবনের শান্ত সংসারেও তুমি সংগ্রামের মশাল নিভতে দাওনি। কাউছার পারভিন ডলির সঙ্গে হাতে হাত রেখে তুমি গড়ে তুলেছিলে ভালোবাসা ও আদর্শের সংসার, যেখানে সন্তানদের শেখানো হয়েছে সত্যের মূল্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব।

সাপ্তাহিক মনুবার্তা— শুধু একটি পত্রিকার নাম ছিল না, এটি ছিল মানুষের কণ্ঠস্বর, এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী মঞ্চ। তোমার সম্পাদনায় সংবাদ হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদ, কলম হয়ে উঠেছিল শোষণের বিরুদ্ধে অস্ত্র। মৌলভীবাজারের জনজীবন, সংস্কৃতি, সাহিত্য, অবহেলিত মানুষের কথা—সব উঠে আসত সেখানে, কারণ তুমি বিশ্বাস করতে— সত্য উচ্চারণ করাই সাংবাদিকতার প্রধান শপথ।

নির্বাচনে দাঁড়িয়েছ বহুবার, কিন্তু ক্ষমতার মোহে নয়, মানুষের রাজনীতিকে সামনে আনার প্রত্যয়ে। তুমি ভোটের ভাষণেও বলেছ— এই দেশ কেবল ধনীদের জন্য নয়, এই দেশ শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, চা-শ্রমিক সবার। গণতন্ত্র মানে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র মানে ভয়ের শাসন ভেঙে ফেলা।

হো চি মিনের জন্মশতবর্ষ, নজরুলের জন্মশতবর্ষ, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্ল মার্কস, মহান অক্টোবর বিপ্লব— ইতিহাসের প্রতিটি প্রগতিশীল আলোকবর্তিকাকে তুমি মানুষের সামনে নতুন করে তুলে ধরেছিলে। কারণ তুমি জানতে— সংস্কৃতি ও ইতিহাস ছাড়া সংগ্রাম পূর্ণ হয় না, চেতনার শিকড় ছাড়া রাজনীতি টেকে না।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনে তুমি মৌলভীবাজারে সংগঠিত করেছিলে মানুষ, বলেছিলে—যুদ্ধাপরাধের বিচার হবেই, রক্তের দায় কোনোদিন মুছে যায় না। তোমার কণ্ঠে তখন ইতিহাসের সত্য, তোমার চোখে তখন মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত শপথ।

মাগুরছড়া, টেংরাটিলা, বিবিয়ানা— প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার প্রতিটি লড়াইয়ে তুমি ছিলে সামনের সারির যোদ্ধা। গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের আগুনে যখন জনপদের বুক পুড়ে ছাই হচ্ছিল, তুমি বলেছিলে— এই সম্পদ জনগণের, এ লুটপাট চলতে পারে না। তোমার কণ্ঠে তখন পাহাড়-নদী-অরণ্যের আর্তনাদ।

প্রান্তিক শব্দকর জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে তুমি দেখিয়েছিলে রাজনীতির প্রকৃত অর্থ। যাদের সমাজ অবহেলা করেছে যুগের পর যুগ, তাদের তুমি শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে এনে বলেছিলে— এই দেশ তোমাদেরও, তোমাদের ভাষা, শ্রম, সংস্কৃতিরও মর্যাদা আছে। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাঠ।

ঢাকায় কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনকালে তুমি সারা দেশের কমরেডদের কাছে হয়ে উঠেছিলে সাদাসিধে অথচ দৃঢ়চেতা এক অভিভাবক। কঠিন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাঝেও তোমার কণ্ঠে থাকত আন্তরিকতার উষ্ণতা, বিরোধের মাঝেও তুমি খুঁজতে ঐক্যের পথ, কারণ তুমি বিশ্বাস করতে— জনগণের সংগ্রাম বিভক্ত হলে শক্তি হারায়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়ে তুমি কোনোদিন ব্যক্তিগত অহংকারে ভাসোনি, বরং আরও বেশি ছুটে গেছ মানুষের কাছে। সভা শেষে কর্মীর খোঁজ নিয়েছ, শ্রমিকের পাশে বসে চা খেয়েছ, ক্ষেতমজুরের ঘরে গিয়েছ নিঃসংকোচে, কারণ তোমার রাজনীতি ছিল মাটির কাছাকাছি।

শারীরিক অসুস্থতা যখন শরীরকে ক্লান্ত করেছে, তবু মনকে থামাতে পারেনি সংগ্রামের পথ থেকে। দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়লেও তুমি কখনো দায়িত্ববোধ ছাড়োনি। প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে থেকেও তুমি আলো জ্বালিয়েছ নবীনদের মনে, শিখিয়েছ—দল মানে কেবল সংগঠন নয়, দল মানে আদর্শ, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ।

উদীচীর পঞ্চাশ বছরে সম্মাননা পেয়েও তোমার চোখে ছিল বিনয়ী হাসি, যেন বলছ— এই স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটি গণমানুষের সংস্কৃতি আন্দোলনের। গ্রিসে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সভায় গিয়ে তুমি বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের কথা বলেছ, বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে মিলিয়েছ কণ্ঠ, কারণ তোমার স্বপ্নের কোনো সীমানা ছিল না।

ভারত, নেপাল, চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, তুরস্কের মাটিতেও তুমি বহন করেছ বাংলার লাল পতাকা, কিন্তু ফিরে এসেছ সবসময় নিজের মানুষের কাছে, মৌলভীবাজারের চায়ের দোকানে, কৃষকের উঠোনে, শ্রমিকের সভায়, কারণ এ মাটিই ছিল তোমার প্রাণের কেন্দ্র।

তারপর একদিন— ২০১৯ সালের সেই ২৯ মে-রাত্রি, ইউনাইটেড হাসপাতালের নীরব দেয়ালে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে তুমি চলে গেলে দূরে। কত মানুষ কেঁদেছিল সেদিন, কত পতাকা নত হয়েছিল শোকে, কত কণ্ঠে উঠেছিল— কমরেড, লাল সালাম! তবু মৃত্যু তোমাকে শেষ করতে পারেনি, কারণ আদর্শের মানুষের মৃত্যু হয় না কখনো।

আজ সপ্তম প্রয়াণ দিবসে আমরা যখন স্মৃতির দরজায় দাঁড়াই, দেখি—তুমি হাঁটছ এখনও মিছিলে, তুমি বলছ এখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তুমি ডাক দিচ্ছ এখনও শ্রমিক-কৃষকের ঐক্যে, তুমি লিখছ এখনও মনুবার্তার পাতায়, তুমি জেগে আছ এখনও তরুণের চোখে।

আজকের বাংলাদেশে যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ আবার ছড়ায়, ধনীর অট্টালিকা আরও উঁচু হয়, গরিবের থালা আরও শূন্য হয়ে যায়, যখন সত্য বলার মানুষ কমে আসে, তখন তোমার জীবন আরও বেশি প্রয়োজন, তোমার আদর্শ আরও বেশি জরুরি, তোমার সাহস আরও বেশি অনিবার্য।

কমরেড আবু জাফর, তুমি শিখিয়েছ— রাজনীতি মানে মানুষের জন্য বাঁচা, সংগ্রাম মানে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়া, ভালোবাসা মানে নিপীড়িতের পাশে দাঁড়ানো, দেশপ্রেম মানে জনগণের অধিকার রক্ষা করা। তুমি শিখিয়েছ— বিপ্লব কেবল বইয়ের শব্দ নয়, বিপ্লব মানুষের রক্ত, ঘাম, অশ্রুর ইতিহাস।

আজ আমরা তোমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ নিতে চাই নতুন করে— শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়ব, চা-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব, ক্ষেতমজুরের জমির দাবিতে সোচ্চার হব, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানবতার পতাকা তুলব, সংস্কৃতির মুক্ত আকাশ রক্ষা করব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি হতে দেব না, শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব অবিরাম।

কারণ তোমার জীবন আমাদের শিখিয়েছে— একজন সত্যিকারের কমরেড কখনো মরে না, তিনি ছড়িয়ে পড়েন মানুষের চেতনায়, প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি লাল পতাকার দোলায়, প্রতিটি শ্রমিকের ঘামে, প্রতিটি কবিতার উচ্চারণে, প্রতিটি ন্যায়ের সংগ্রামে।

তুমি আছো— মৌলভীবাজারের বৃষ্টিভেজা পথে, চা-বাগানের সবুজ ঢালে, উদীচীর গানের কণ্ঠে, মনুবার্তার হলদে পাতায়, শহীদ মিনারের মশাল-আলোয়, ক্ষুধার বিরুদ্ধে শ্লোগানে, প্রগতির প্রতিটি উচ্চারণে।

দুনিয়ার মজদুর এক হও— তোমার কণ্ঠ আজও প্রতিধ্বনিত হয়, সময়ের দেয়াল পেরিয়ে, প্রজন্মের পর প্রজন্মে। আর আমরা শুনি— একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বড় তার আদর্শের উত্তরাধিকার।

সালাম তোমাকে, কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, সালাম তোমার সংগ্রামকে, সালাম তোমার নির্ভীক উচ্চারণকে, সালাম তোমার লাল পতাকাকে।

যতদিন এই দেশে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই থাকবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থাকবে, মানুষের মুক্তির স্বপ্ন থাকবে, ততদিন তুমি থাকবে— সংগ্রামের আলোকবর্তিকা হয়ে, অদম্য এক লাল শপথ হয়ে, বাংলার মাটিতে, মানুষের হৃদয়ে, চিরজাগরুক কমরেড হয়ে।
—(কমরেড জাফর,—সৈয়দ আমিরুজ্জামান)

আজীবন সংগ্রামী নেতা কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের সপ্তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ে সাম্য, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেখানে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদের রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর উচ্চারণ— “দুনিয়ার মজদুর এক হও”— আজও সংগ্রামী মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়।

সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯

Tags: সৈয়দ আবু জাফর
ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • বাগমারায় মবের কবলে মাছ ব্যবসায়ী
  • শ্যামনগরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে শিশুর মৃত্যু
  • ঝালকা‌ঠির নলছিটিতে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
  • চু্য়াডাঙ্গায় বিনোদন কেন্দ্রগুলো উপচে পড়া ভিড়
  • ভাষাচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় : ভাষাবিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও বাঙালির জ্ঞান-ঐতিহ্যের এক মহীরুহ

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম