নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুরের মাওনায় এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অপহরণের ঘটনায় গত ৪৯ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক স্থানীয় মসজিদের ইমামের মেয়ে। নিজ ঘরের দরজা ভেঙে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাবার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তরুণীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অপহৃত মেয়েটির কোনো হদিস না মেলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী ওই ইমামের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মাওনার বাতাস। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বর্ণনা করেন সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা। তিনি বলেন, “৪০-৪৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। তারা আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখলে আমার মেয়েটি ভয়ে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল— ‘বাবা, আমাকে বাঁচাও… আমাকে হেফাজত করো…’ কিন্তু অস্ত্রধারী পাষণ্ডদের সামনে আমি আমার কলিজার টুকরাকে রক্ষা করতে পারলাম না। একজন বাবা হিসেবে এই ব্যর্থতা আমি কোথায় রাখব?”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারীদের সংখ্যা ছিল বিশাল, যা কোনো পরিকল্পিত গ্যাং বা সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন থাকলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘটনার পর প্রায় দুই দিন পার হতে চললেও পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে পরিবারটি দৃশ্যমান কোনো সহযোগিতা বা উদ্ধারের আশ্বাস পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিন্দার ঝড় বইছে। নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে— যদি বাবার বুকেও সন্তান নিরাপদ না থাকে, তবে এ সমাজে নিরাপত্তার সংজ্ঞা কী? ঘরে ঢুকে এভাবে এক কন্যাসন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের মানবিকতা ও সামাজিক কাঠামোর চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি অপহরণ নয়, বরং এটি পুরো বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। দ্রুততম সময়ে মেয়েটিকে উদ্ধার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা গেলে সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হবে। মাওনার এই ইমাম পরিবার এখন কেবল প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং তাদের মেয়ের অক্ষত ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আমাদের সবার জিজ্ঞাসা একটাই— নিভৃত পল্লীর এই সাধারণ পরিবারটি কি বিচার পাবে? নাকি বাবার সেই বুকফাটা আর্তনাদ অরণ্যে রোদন হয়েই থেকে যাবে?

