মো. নাছির উদ্দিন, চাঁদপুর:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলাধীন পালাখাল মডেল ইউনিয়নের সফিবাদ গ্রামে স্বর্ণ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে সফিবাদ পশ্চিম পাড়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে এলাকার অসংখ্য নারী, পুরুষ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন,ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান, সায়েদুল ইসলাম হেলাল , মোস্তফা মুন্সী, মুক্তা আক্তারসহ প্রমুখ। তারা জানান, জানেবুল হাসান মানিক সরকার সৌদি প্রবাসী। সে মূলত স্বর্ণ পাচারকারী চক্রের মূলহোতা। আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার মাহবুব নামের এক কাউন্সিলরের অফিসে কাজ করতো।সে সুবাদে তার দেহরক্ষী হিসেবে গ্রামের বাড়িতে সবাইকে পরিচয় দিতো।এমনকি ওই কাউন্সিলরের অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘুড়ে বেড়াতো। ঢাকায় রয়েছে তার অপরাধ জগতের বিশাল সাম্রাজ্য। সোদি আরব যাওয়ার পর মিজানুর রহমানের সাথে মানিকের সখ্যতা গড়ে উঠে।
জানেবুল হাসান মানিক ভুক্তভোগী মিজানের পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোক।দু’জনের মাঝে সুসম্পর্ক তৈরির পর জানেবুল হাসান মানিকের মারফতে (১৬ অক্টোবর ২০২৫) সালে ওমরাহ পালনকারী চার জন হাজীর মাধ্যমে পুরাতন স্বর্ণের চারটি বার দেশে পাঠায় মিজান।তারা হলেন উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের দুই সহোদর শামসুল হক,আব্দুল হক ও তাদের স্ত্রী।
যার ওজন চার শত গ্রাম।কিন্তু নিয়তির পরিহাস কে জানতো এ মানিকের ঢাকায় এতো বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হাজীরা পৌছার পর জানেবুল হাসান মানিক মিজানের পাঠানো স্বর্ণের বারগুলো রিসিভ করার জন্য তার আপন ফুফাতো ভাই সোহেল ও জুয়েলকে বিমানবন্দরে পাঠায়।তারা দু’জনে হাজীদের কাছ থেকে স্বর্ণগুলো রিসিভ করে।তারপরে শুরু হয় তাদের ছলচাতুরী।
মূলত জানেবুল হাসান মানিক, জুয়েল, সোহেল,রুবেল ও কাউছারের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করে এ স্বর্ণের বারগুলো আত্মসাৎ করছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান দেশে এসে প্রথমে বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিমানবন্দর থানা কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানকে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস প্রদান করেন।পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের বিষয়টি অবগত করার পর সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।তখন তারা বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে লিখিতভাবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে।তারপর থেকে গড়িমসি শুরু করতে থাকলে ভুক্তভোগী মিজান কচুয়া থানায় গেলো (১৫ জুন ২০২৬) আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।গ্রামবাসী বলেন, জানেবুল হাসান মানিক, রুবেল,জুয়েল,সোহেল ও কাউছার মানুষের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।
এসমস্ত প্রতারণা করে তারা এলাকায় অত্যাধুনিক ডুপ্লেক্স ভবন তৈরিসহ অনেক সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।এছাড়াও এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়না।মানববন্ধনে মূলহোতা জানেবুল হাসান মানিকসহ সিন্ডিকেট চক্রের ৪ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।

