সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়া হামের (Measles) প্রকোপে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিশু এবং সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুর নাম— ইশিতা কাহের, সুস্মিতা ও লাবিবা। তারা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত তিন শিশুরই বয়স এক বছরের কম (১১ মাস বা তার নিচে) বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই তিন শিশুর মৃত্যুর পর শুধু সিলেট বিভাগেই হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কোনো পজিটিভ রোগী শনাক্ত না হলেও, হামের তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহভাজন ৯২ জন নতুন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৪৯ জন শিশুর শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব (Measles Positive) শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪০টি শিশুর মধ্যে ৪ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। বাকি ৩৬টি শিশু ল্যাব পরীক্ষার আগেই হামের তীব্র উপসর্গ (যেমন: প্রচণ্ড জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া জটিলতা) নিয়ে মারা গেছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি তীব্র জ্বর ও নিউমোনিয়ার জটিলতা নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি ছিল।
চিকিৎসকদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা এখনো হামের টিকা (MR Vaccine) পায়নি, তারাই এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। শিশুদের প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে দানাদার লালচে র্যাশ দেখা দিলে কোনো ধরণের অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

