রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এবারের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে, তবুও বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে কার্গো বিভাগের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে বিমানবন্দরের ফায়ার ফাইটিং ইউনিটের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, একটি কুরিয়ার কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পর পরিষ্কার হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক। যদি কোনো গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনা প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে কার্গো এলাকায় ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, শত শত কোটি টাকার আমদানি পণ্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা এমন একটি স্থানে বারবার আগুন লাগা অস্বাভাবিক। এতে পণ্য নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও কার্গো এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই ঘটনার পরও নতুন করে একই ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থানে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুধু দুর্ঘটনা নাকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা—তা নিয়ে এখন চলছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

