কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নতুন অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নবায়নের মাধ্যমে সংস্থাটি অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান দেবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাও বিভিন্ন সেবার সুবিধা পাবেন।
ইইউ ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় শুধু খাদ্য ও জরুরি সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শরণার্থী শিবিরগুলোতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন উজাড় কমার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় এখন টেকসই সমাধানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আয়মুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে শরণার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে তারা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন।
অন্যদিকে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই সহায়তার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহযোগিতা শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য চলতি বছরে প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

