ভ্যানকুভারে ইতিহাস রচনা করল মিশর। ৯২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল।সোমবার কানাডার ভ্যানকুভার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে লিড এনে দেন এই ডিফেন্ডার।
প্রথমার্ধে ৫৭ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও গোল দিতে খুব বেশি সফল হতে পারেনি মিশর। গোলে মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হয় তারা। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সালাহরা।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯ মিনিটে মোহাম্মদ হানির দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান মোস্তফা জিকো। এরপর ৬৭ মিনিটে জিকো বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে মিশরকে এগিয়ে দেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহর দিকে।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য উঠে পড়ে খেলে নিউজিল্যান্ড। তবে ৮২ মিনিটে সালাহ কর্নার থেকে হেডে গোল করে তাদের সব আশা শেষ করে দেন বদলি ফরোয়ার্ড ত্রেজেগুয়েত। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর।
এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন সালাহ। জিকো ও ত্রেজেগুয়েত করেন বাকি দুই গোল।
এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি মিশর। অবশেষে বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ আসরে এসে সেই আক্ষেপ ঘোচাল ফারাওরা।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। সমান ম্যাচে ইরান ও বেলজিয়ামের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট করে। নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ১।
তবে গ্রুপ থেকে এখনো কোনো দলই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ড্র করলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে মিশরের। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের ম্যাচও গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের মুখোমুখি হবে মিশর। একই সময়ে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম

