সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মাঝারি ধরনের তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক মানুষকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত মানুষজন স্বস্তির খোঁজে ডাব ও আখের রসের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। কেউ ঠান্ডা পানি পান করছেন, কেউ গাছের ছায়ায় বসে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক রিকশা ও ভ্যানচালককে রাস্তার পাশে গাছের নিচে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
দিনাজপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সকাল থেকেই গরমের তীব্রতা বেশি। দুপুরের দিকে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আগে যেখানে দিনে প্রায় ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন তা কমে ৭০০–৮০০ টাকায় নেমে এসেছে।
আরেক অটোরিকশা চালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টার পর রাস্তায় মানুষ কমে যায়। গরমে অনেক সময় গাড়ি থামিয়ে ছায়ায় বসে থাকতে হয়, এতে আয় কমে যাচ্ছে।
শহরের বাহাদুরবাজার এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “গরমে প্যাডেল মারতে খুব কষ্ট হয়। ঘন ঘন পানি খেতে হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিতে হয়।”
দিনাজপুরের আখের রস বিক্রেতা হায়দার আলী বলেন, গরমের কারণে আখের রসের বিক্রি বেড়েছে।
রেলবাজার এলাকার ডাব বিক্রেতা মো. সাইদুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিক্রি অনেক বেড়েছে। আগে দিনে ৮০–১০০টি ডাব বিক্রি হলেও এখন ১৫০টিরও বেশি বিক্রি হচ্ছে।
আখের রস বিক্রেতা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। গরম যত বাড়ছে, আখের রসের চাহিদাও তত বাড়ছে।
দিনাজপুরের ব্যাংক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অফিসের কাজে বাইরে বের হতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে, তাই ডাবের পানি খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে গরমে খুব কষ্ট হয়। তাই মাঝে মাঝে ডাব বা আখের রস খেয়ে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস বলেন, এ ধরনের তাপদাহে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

